১৮ হাতের মহালক্ষ্মী, ২৬ বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন শক্তিরূপে মালদার বামনগোলায়

Spread the love

মালদা , ২৫ অক্টোবর : দশভুজা বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু মা লক্ষ্মীরও যে ১৮টি হাত থাকতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। এমনই এক ব্যতিক্রমী মহালক্ষ্মী পুজোর সাক্ষী মালদার বামনগোলা ব্লকের গাঙ্গুরিয়া। এখানকার শ্রীশ্রী সারদা তীর্থ আশ্রমে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রাচীন রীতিনীতি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছেন ১৮ হাতবিশিষ্ট মহালক্ষ্মী।

২০০০ সাল থেকে এই আশ্রমে শুরু হয় ১৮ হাতবিশিষ্ট মহালক্ষ্মী পুজো। সেই থেকেই বিশেষ রীতিতে দেবীর আরাধনা চলে আসছে। সকালে দেবী মহালক্ষ্মীর শক্তিরূপে এবং রাতে কোজাগরী লক্ষ্মীরূপে তাঁর পুজো করা হয়।

দেবীর ১৮টি হাতে রয়েছে চক্র, ত্রিশূল, গদা, তির-ধনুক, বজ্র, কুঠার, পদ্ম, শঙ্খ-সহ বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রতীক। অসুরবিনাশিনী শক্তিরূপে দেবীকে কল্পনা করেই এই বিশেষ রূপে তাঁর আরাধনা করা হয় বলে আশ্রম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।

কোজাগরী পূর্ণিমা উপলক্ষে আশ্রমে পুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। ১৬ রকম উপাচারে দেবীর পুজো, যজ্ঞে ১০৮টি বেলপাতা অর্পণ এবং বিশেষ ভোগ নিবেদনের রীতি রয়েছে। ভোগে থাকে পাঁচ রকমের ভাজা, তিন রকমের তরকারি, ডাল ও মিষ্টি। রাতে চিত্রপটেও মহালক্ষ্মীর পুজো করা হয়।

আশ্রমের স্বামী আত্মাপ্রেনানন্দ মহারাজ জানান, ১৯৯৮ সালে আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সাল থেকে শুরু হয় ১৮ হাতবিশিষ্ট মহালক্ষ্মীর পুজো। দেবীকে এখানে লক্ষ্মী, দুর্গা ও চণ্ডীর বিভিন্ন রূপের সমন্বয়ে শক্তির প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়।

এই পুজো দেখতে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা থাকে। ২৬ বছরের ঐতিহ্য ধরে আজও ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বামনগোলার গাঙ্গুরিয়া সারদা তীর্থ আশ্রমের এই বিশেষ মহালক্ষ্মী পুজো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *