
মালদা, ২৩ সেপ্টেম্বর : সন্দেহের বশে স্ত্রীকে মারধর করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে ছুটে যান গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে গৃহবধূর পরিবার। শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত স্বামী এখনও অধরা বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার। হবিবপুরের বুলবুলচণ্ডীর দেশওয়ালি পাড়ার বাসিন্দা প্রেমা গুপ্তা (২৪) বাসাবাড়িতে আয়ার কাজ করেন। অভিযোগ, সেদিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পরই স্বামী মিঠুন সিংহ তাঁকে সন্দেহের বশে মারধর করেন। এরপর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। কোনওক্রমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে যান প্রেমা। তাঁকে প্রথমে বুলবুলচণ্ডী আরএন রায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মালদা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে তালপুকুর এলাকার মিঠুনের সঙ্গে প্রেমার বিয়ে হয়। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের মধ্যস্থতায় মাত্র দু’মাস আগে ফের সংসার শুরু করেছিলেন তাঁরা।
গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী উপার্জন করলেও সেই টাকা নিয়ে নেশা করতেন মিঠুন। পরকীয়ার সন্দেহে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। অভিযুক্ত স্বামীর দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গৃহবধূর পরিবার লোকেরা।