
মালদা, ২৭ অক্টোবর : অবশেষে দায়িত্ব নিয়ে বেআইনি বিল্ডিং ভাঙার সরকারি নির্দেশ জারি করল বিজেপি পরিচালিত ইংরেজবাজার পৌরসভা। একই সাথে তৃনমূল বোর্ডের শুরু করা জঞ্জাল কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি বোর্ড। সোমবার দুপুরে ইংরেজবাজার পুরসভার কনফারেন্স হলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি। বলা বাহুল্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে বেআইনি ভাবে একটি বহুতল বিল্ডিং তৈরি করে সেখানে বানিজ্যিক হারে দোকান ঘর, হোটেল রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠে। যা নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা বিতর্ক। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি বলেন সদর মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে ডিএসএ মাঠ সংলগ্ন বিহারী ভাইয়া রেস্টুরেন্ট সহ ১১ টি দোকানের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গায় বেআইনিভাবে নির্মাণ করার অভিযোগের নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাদেরকে ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই ১৫ দিনের মধ্যে নিজেরা সরকারি নির্দেশ কার্যকর না করলে। তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনের নির্দেশে পুরসভা ওই বেআইনি বিল্ডিং ভেঙে ফেলবে। পুরসভার আরো জানান বলেন, সরকারি জমিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে যে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে সেটা তদন্তে প্রমাণিত। দীর্ঘদিন ধরেই শহর জুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। যে বিল্ডিং ভাঙার নির্দেশ জারি হয়েছে সেটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিএসএ’র সরকারি জায়গায় একাধিক রেস্তোরাঁ ও দোকান তৈরি হয়েছে। এনিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু ওইসব রেস্তোরাঁর মালিক ও দোকানিরা বৈধ কোনও নথিপত্র দেখাতে পারি নি। ফলে সেগুলি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ আজকে থেকে এই জারি করা হয়েছে। যদি সময়ের মধ্যে ওইসব দোকানীরা নিজেদের থেকে সরে না যায়, তাহলে পরবর্তীতে পুরসভা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্মাণ বেআইনি

চেয়ারম্যান আরও বলেন , শহর জুড়ে প্রচুর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বহুতল গড়ার জন্য অনিয়মভাবে প্লান পাস করানো হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সরকারি জায়গায় যেসব বেআইনি নির্মাণ হয়েছে সেগুলির বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে বেআইনি আরও যেসব নির্মাণ রয়েছে সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মাণ বেআইনি
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অম্লান ভাদুরি বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে জোর করে জঞ্জাল কর চালু করার একটা অভিযোগ উঠেছিল গৃহস্থদের ক্ষেত্রে মাসে ৩০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কাউকে ৫০ টাকা আবার কাউকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হত। এক্ষেত্রে প্রতিদিনই প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা এই জঞ্জাল কর উঠানো হত। কিন্তু শহরের সিংহভাগ নাগরিকেরা এনিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়। সেইদিক বিচার করেই এদিন থেকেই শহরের প্রায় ৬২ হাজার হোল্ডিং ব্যবহারকারীদের এই বাণিজ্যিক কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোনরকম ভাবেই এই বাণিজ্যিক কর আর নেওয়া যাবে না।
চেয়ারম্যান বলেন, গত ৭ অক্টোবর আমি পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত দিনে এই পুরসভায় বিরোধী দলনেতা থেকে নানান অভিযোগ মানুষ আমাকে জানিয়েছেন। সেইসব অভিযোগের ভিত্তি ধরেই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আইন মেনেই সমস্ত বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে । নির্মাণ বেআইনি নির্মাণ বেআইনি নির্মাণ বেআইনি