
মালদা , ৭ ফেব্রুয়ারি: রাতের অন্ধকারে এলাকায় টাঙানো হচ্ছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের পোস্টার। তাও আবার উত্তরপ্রদেশের দুই যুবক এই পোস্টারগুলি টাঙ্গাছিল। এলাকায় অচেনা দুই যুবককে এক টোটো চালকের সঙ্গে এহেন কাজ করতে দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ । এরপর একের পর এক প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবক সহ টোটো চালককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এই ঘটনাই দলের কার্যকর্তাদের মারধর করার পাল্টা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় বিজেপির বিক্ষোভ ও আন্দোলনের জেরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ালো মানিকচক থানার শেখপুর এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ একটি এজেন্সির মাধ্যমে দলের নির্বাচনী পোস্টার টাঙানো কাজ শুরু হয়েছে। অথচ তৃণমূলীরা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েই উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবককে ব্যাপক মারধর করেছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা মানিকচকের এক প্রটোচালক কেও মারধর করে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরেই এদিন দুপুরে মানিকচক থানার সামনেই গণ-আন্দোলনে বসেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। তৃণমূলের অভিযোগ এলাকায় দাঙ্গা লাগাতে উত্তর প্রদেশ থেকেই এভাবেই বহিরাগতদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হচ্ছে। MALDA
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবকের নাম নীতিন কুমার এবং বিপিন কুমার। সম্পর্কে তারা দুই ভাই। তাদের বাড়ি লখনৌতে। এদিন রাতে শেখপুর এলাকার বিভিন্ন বাড়ির দেওয়াল গুলিতেই একটি রাজনৈতিক দলের পোস্টার সাঁটাছিলেন ওই দুই যুবক। তাদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকার এক টোটো চালক ছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু মানুষ অচেনা ওই দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে এই কাজ করতে দেখেই তাদের জেরা করে এবং ওদের কাছ থেকে অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবক সহ মোট তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসে।

এদিকে শেখপুরা গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ মনিরুল, বসিরুদ্দিন শেখ, শুকদেব মন্ডলদের বক্তব্য, বিজেপির একটি স্লোগান দেওয়া পোস্টার ওরা গ্রামের বাড়ির দেওয়ালগুলিতেই আটকাচ্ছিল। উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবক গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় কেন এভাবে কাজ করবে? এটা আমাদের সন্দেহ জাগিয়ে ছিল। আমরা মনে করেছি এলাকায় হয়তো কোনও কারনে গোলমাল পাকাতে ওরা এরকম ভাবে কাজ করছে। দিনের বেলাতেও তো কাজ করতে পারতো। নিশ্চয়ই ওদের মধ্যে কোনরকম ষড়যন্ত্র ছিল। তাই বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে ওদেরকে ধরে নিয়ে যায়। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে মানিকচকের বিজেপি নেতা তথা দলের জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ মিশ্র বলেন, এটা সম্পূর্ণ তৃণমূলের ষড়যন্ত্র। কারণ, বিজেপি দলের পক্ষ থেকে একটি এজেন্সির মাধ্যমে এই ধরনের পোস্টার ও ব্যানার টাঙ্গানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। যেটা বাইরের একটি এজেন্সি কাজ করছে। সুতরাং সেই এজেন্সি যে কাউকে দিয়েই দলের নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে পোস্টার ও ব্যানার টাঙ্গানোর কাজ করাতেই পারে। অথচ এদিন এলাকার কিছু তৃণমূলীরা ওদেরকে ধরে ব্যাপক মারধর করেছে। পাশাপাশি পুলিশ অন্যায় ভাবে ওদের আটকে রেখেছে। আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানিকচক থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেছি। MALDA
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন , এখানে মিথ্যা ভাবে তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা উত্তরপ্রদেশের ওই দুই যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। সুতরাং পুরো বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন বলতে পারবে। আসলে বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল। ওরা গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্যেই এভাবে বহিরাগত দিয়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে কাজ করছে, যাতে করে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
মানিকচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শেখপুরা এলাকার কয়েকজন গ্রামবাসী একটি অভিযোগ জানিয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত এক টোটো চালক সহ উত্তরপ্রদেশের দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।