মালদার আম | মালদার আমে সবুজ সংকেত, ইউরোপে রপ্তানির পথে ৫০০ মেট্রিক টনের লক্ষ্য

Spread the love

মালদা , ৩০ মে : সবুজ সংকেত রপ্তানিকারকদের। গত মরশুমে গুনগতমান নিম্মমানের থাকায় অধিক রপ্তানি সম্ভব হয়নি। এবার মরশুমের প্রথম থেকেই গুনগতমানের উপর জোর দিয়েছিলেন কৃষকেরা। যাতে মরশুমের প্রথমেই রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হয়। কলকাতার পাঁচ রপ্তানিকারক মালদায় এসে এবারের আমের গুনগতমান দেখে খুশি। এমনকি এই আম ইউরোপীয় দেশগুলিতে রপ্তানি সম্ভব জানিয়ে দিলেন রপ্তানিকারকেরা।গত বছর মালদার ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিলো। এই বছর প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির পরিকল্পনা নিয়েছেন মালদার আমব্যবসায়ী থেকে রপ্তানিকারকেরা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে আমচাষী ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে এক বৈঠক করানো হয়। মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় শতাধিক আমচাষী ছিলেন। কলকাতা থেকে পাঁচ জন ও মালদার একজন রপ্তানিকারক উপস্থিত ছিলেন। মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী দূষ্য়ান্ত কুমার রাঘব বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে প্রথম থেকেই জোর দেওয়া হয়েছিলো। কৃষকদের নিয়ে ফার্মার ক্লাব করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ থেকে আধুনিক কৃষি সামগ্রী বিলি করা হয়েছে। গতবছর আমের গুনগত মান ভালো না থাকায় অল্প পরিমাণ আম রপ্তানি হয়েছিলো। এই বছর ভালো আম উৎপাদন হচ্ছে। বিদেশে আরো বেশি আম রপ্তানি হবে আশা করছি। ইতিমধ্যে রপ্তানিকারকেরা আমের গুনগত মান দেখে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আমের জন্য বিখ্যাত মালদা জেলা। বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ মালদার আমের বাজার সংকুচিত হচ্ছিল। স্থানীয় বাজার ও পার্শ্ববর্তী কিছু রাজ্যে মালদা আম বিক্রি হচ্ছিল। পুরনো কিছু পদ্ধতি ও অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে আমের সুণাম নষ্ট হয়েছিল। মালদা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র জেলার আমের সুনাম পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে বিগত কয়েক বছর ধরেই একাধিক পরিকল্পনা নেয়। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে বেশ কিছু বাগানে এক্সপেরিমেন্ট করেন। গত বছর থেকে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগেই প্রথম শুরু হয় আমের ব্যাগিং।

এছাড়াও আধুনিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। এতেই বাজিমাত। কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২০০ জন আম চাষিদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে কৃষক ক্লাব। মূলত তারাই মালদায় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে প্রচেষ্টা করছেন। সরকারিভাবে তাদের সমস্ত রকম সাহায্য করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মালদা জেলার তিনটি প্রজাতির আম জিআই পেয়েছে। অ্যাপেডার এর পক্ষ থেকেও মালদার আমের গুণগত মানের যে শংসাপত্র তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় বিদেশে আমরপ্তানির প্রয়াস শুরু হয়েছে। মূলত মালদার লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও হিমসাগর এই তিন প্রজাতির আম প্রথম দিকে রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ফজলি বৃন্দাবনী আশিনা আম বিদেশে পাঠানো হবে। আগস্ট মাসের দিকে এই দুই প্রজাতির আম পাকে। সে সময় বিদেশের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হচ্ছে মালদায়। এই বছর আমরা আশা করছি ৫০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে পাঠাতে পারব। কলকাতার রপ্তানিকারকেরা ইউরোপের দেশ গুলিতে মূলত উড়িষ্যা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আম রপ্তানি করেন। পশ্চিমবঙ্গের আমের সুনাম থাকলেও গুণগত মান ভালো না থাকায় এতদিন আম রপ্তানি হয়নি। এবছর মালদা জেলায় প্রায় তিন লক্ষ আমে ব্যাগিং করা হয়েছে। এছাড়াও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে যে ধরনের পরিকাঠামো থেকে পরিচর্যা দরকার সবটাই হচ্ছে মালদার আমে। ধীরে ধীরে মালদার আম আবারও সুনামের দিকে এগোচ্ছে। আগামীতে আবারো মালদার আমের ওপর জেলার অর্থনীতি অনেকটাই চাঙ্গা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *