“৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল — Calcutta High Court (ডিভিশন বেঞ্চ) ২০২৩ সালের রায় বাতিল করল”

Spread the love

কোলকাতা, ৩ ডিসেম্বর :

  • আজ, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে, Calcutta High Court-র ডিভিশন বেঞ্চ (বিচারপতি Tapabrata Chakraborty ও Reetobroto Kumar Mitra) ২০১৬ সালের নিয়োগ থেকে চাকরি পেয়েছিলেন প্রায় ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের পূর্ববর্তী একক-বেঞ্চের রায় বাতিল করে “চাকরি বহাল” রাখলেন।
  • আদালত যুক্তি দিয়েছে — অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগে ৩২,০০০ জনেরই নিয়োগ একসঙ্গে বাতিল করার আইনগত প্রমাণ যথেষ্ট ছিল না।
  • ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, ৯ বছরের চাকরির পর এমন সুষ্ঠু প্রক্রিয়া ছাড়া চাকরি শেষ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবারগুলোর ওপর “ভয়ঙ্কর প্রভাব” পড়বে।

📚 সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

  • ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টিএট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪২,৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
  • পরে “নিয়োগ দুর্নীতি, অনিয়ম — cash-for-jobs”–র অভিযোগ ওঠে; সেই ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীর হয়ে মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালের ১২ মে, ওই সময়ের একক-বেঞ্চ বিচারপতি Abhijit Gangopadhyay ৩২,০০০ জনের নিয়োগ বাতিল করার নির্দেশ দেন।
  • নির্বাচন কমিশন / নিয়োগ পর্ষদকে নতুন প্যানেল তৈরি করে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নিয়োগ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই চলছিল।

✅ আজকের রায়ের গুরুত্ব ও প্রভাব

  • প্রায় নয় বছরের চাকরির পর — দ্রুত সিদ্ধান্তে চাকরি খারিজ না করে — ডিভিশন বেঞ্চ “নির্দোষরা যেন পেনাল্টি না পায়” এই ন্যায্য-নীতিতে ভর করলেন।
  • এর ফলে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি নিশ্চিত হলো; তাঁদের পরিবার-পরিজনের জন্য আরেক দরকারি পথ বন্ধ হয়ে যায়নি।
  • আদালত নির্দেশ দিয়েছে — যারা দুর্নীতিতে প্রমাণিত, তাঁদের মেলভূগু (tainted) হিসেবে আলাদা করা যাবে; তবে ‘সবই একসাথে’ দোষী করে দেওয়া যায় না। অর্থাৎ, দুর্নীতির সুযোগকে সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। ৩২,০০০

📰 প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা

  • রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে — বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী — এই রায়কে “সত্যের জয়” হিসেবে দেখেছেন। তাঁরা বলেছেন, “নির্দোষদের জামেলা থাকা উচিত নয়।”
  • একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যারা প্রমাণিত দুর্নীতিতে যুক্ত — তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু থাকবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র চাকরি বহাল না, দোষীদের বিচারও চালু থাকবে।
  • আজকের সিদ্ধান্ত হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য স্বস্তির, কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়োগ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার চাহিদাও জোরালো করছে।

আজকার রায়ে — ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেলে ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি — যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন — ফিরে পেলেন। আদালত একক-বেঞ্চের “বাল্ক বাতিল” রায় বাতিল করে বলেছে, “সবাই একসঙ্গে দোষী নয়; যারা দোষী প্রমাণিত, আলাদা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *