
মালদা, ২৮ জানুয়ারি: নৌ-চালকের বেশ ধরে রীতিমতো মাঝি সেজে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ঝাড়খন্ডের এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করলো মালদা পুলিশ। বুধবার কাকভোরে কালিয়াচক থানার চরবাবুপুর এলাকার মাঝ গঙ্গায় নৌকা থেকেই ঝাড়খণ্ডের ওই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি সেভেন এমএম পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ২১ রাউন্ড কার্তুজ । পুরো ঘটনাটি নিয়ে বুধবার বিকালে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ধৃতের নাম সাব্বির আলম (২১)। তার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার রাধানগর থানার রাজ্জাকটোলা এলাকায় । উল্লেখ্য ২০ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে মালদা পুলিশ। পর পর অস্ত্র উদ্ধারে একাধিক প্রশ্নের উসকে দিচ্ছে । সামনে বিধানসভা ভোট তার আগে বেআইনি অস্ত্র ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে না তো ! কোন বিষয় উড়িয়ে দিতে চাইছে না পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সব অস্ত্র আসছে প্রতিবেশী রাজ্য থেকে। এবারের অস্ত্র উদ্ধারে ঘটনা ঘটেছে জেলা পুলিশ অফিসার রাম সাহার নেতৃত্বেই একটি বিশেষ টিম গঠন করেই মাঝি সেজে ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারবরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভরে গোপন সূত্রে খবর আছে, ঝাড়খণ্ড থেকে একটি অস্ত্র কারবারীর দল মালদায় আসছে। তড়িঘড়ি জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এরপর তারা কয়েকজন নৌ চালকের বেশ ধরেই কালিয়াচকের চরবাবুপুর এলাকার পৌঁছায় এবং সেখান থেকে একটি যন্ত্রচালিত নৌকা নিয়েই গঙ্গা নদীর ওপারে ঝাড়খন্ডে গিয়ে ভিড়ায়। যদিও প্রতিদিনই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই এলাকার গঙ্গা নদী দিয়ে বহু মানুষ ঝাড়খন্ড থেকে মালদায় আসে। আবার এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করে। নদীর ওপারে নৌকা ভিড়তেই কয়েকজন যাত্রীর পাশাপাশি ঘাড়ে ব্যাগ নিয়ে ওই যুবক উঠে পড়ে। নৌকাতে তখন মাঝি ছাড়াও অন্যান্য যাত্রীর বেশ ধরে জেলা পুলিশের ৫ থেকে ৬ জন অফিসার ছিল। এরপর মাঝ গঙ্গায় নৌকা আসতেই ঝাড়খণ্ডের ওই যুবকের ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আর তারপরেই সেই ব্যাগ থেকে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হতে থাকে। পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই যুবকের সাথে ঝাড়খণ্ডের আরো দুইজন দুষ্কৃতির থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা হয়তো কোনো কারণে পালিয়ে দিয়েছে। ধৃত ওই দুষ্কৃতী এই বেআইনি অস্ত্রগুলি মালদার কোথায় পাচার করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের নাম ও পুলিশের হাতে এসেছে । সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।