
মানিকচক, ৮ অক্টোবর : হেলিকপ্টার করে ভুতনির বন্যা পরিস্থিতির পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভুতনির এই পরিস্থিতি দেখে খানিকটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন , প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার বাঁধ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ভয়ংকর অবস্থা দেখলাম ভুতনির। বিগত দিনে বাম এবং তৃণমূল সরকার ভুতনিকে বাঁচাতে কোনও উদ্যোগই নেয় নি। তবে এবার মানুষের দুর্ভোগ মেটাতে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। বৃহস্পতিবার মালদার মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলে বানভাসি মানুষদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে চেক প্রদান করা হয়। সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা।
এদিন মানিকচক ব্লকের ভুতনি, ইংরেজবাজার ব্লকের মিল্কি, খাসকোল, রতুয়া ১ ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা এলাকার বানভাসী প্রায় ২৪ হাজার ৫৯৫ টি পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বন্যা ও ভাঙনে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য দেওয়া হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের এই আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি দুর্গা পুজো উপলক্ষে নতুন পোশাক মশারি, ত্রিপল এবং পাঁচ দিনের রেশন সামগ্রী দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে ৫ হাজার পরিবারকে। সব মিলিয়ে ২৪২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছর ধরে যারা এই রাজ্যে শাসন করেছেন, তাঁরা মালদার এই নদী ভাঙ্গন এবং বন্যার সমস্যার সমাধান করেন নি। আগের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা আপনাদের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন নি। আমি প্রথম দিন থেকেই যোগাযোগে ছিলাম।’
এদিন মথুরাপুর এর বিএসএস হাইস্কুলে যেখানে ভুতনির বানভাসি মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই স্কুলের ফাঁকা মাঠে সভামঞ্চ করে এই সরকারি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সরকারিভাবে চেক বিলির অন্যান্য কর্মসূচি সম্পূর্ণ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ভুতনির প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গিয়েছে। যার ফলে লক্ষাধিক মানুষকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ইতিমধ্যে কানপুরের আইআইটি বিশেষজ্ঞরা ভুতনির বন্যা ও ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য তদারকি করে গিয়েছেন । আশা করছি এই সমস্যা আগামী দিনে আর হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মালদার ভুতনি থেকে রতুয়া বৈষ্ণবনগর এবং মুর্শিদাবাদ জেলার একটা অংশে বন্যা ও ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধান হবে। ইতিমধ্যে আমরা কেন্দ্র সরকারের কাছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ইতিমধ্যে কেন্দ্র আমাদেরকে ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন করেছে । আমরা স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে কানপুরের আইআইটির সাহায্য নিয়েছি। ওদেরকে ডিপিআর তৈরি জন্য বলা হয়েছে। তারা এসে পরিদর্শন করে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মালদার এই ভাঙ্গন ও বন্যা আজকের সমস্যা নয়। অন্তত কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দুর্যোগ চলে আসছে। মূলত ৫ থেকে ৬ বছর ধরে এই সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ বিগত দিনের সরকার হাত গুটিয়ে বসে থেকেছে। মানুষের দুর্ভোগ মেটানোর কোন সমাধানই করে নি।
বলাবাহুল্য, ভুতনির বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ছিল প্রায় এক মাসের ওপর। পাশাপাশি জলের তলায় চলে গিয়েছিল ভুতনি দিয়ারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। ফলে হাসপাতালের পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে দুর্যোগের সময় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন। সেকথাও এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হেলিকপ্টারে কুড়ি মিনিট ধরে গোটা ভুতনি এবং রতুয়ার কিছু অংশ পরিদর্শন করলাম । ভুতনির যা অবস্থা দেখলাম তা সাংঘাতিক। তবে এবারে এইসব এলাকার বন্যা ভাঙ্গন ঢাকাতে স্থায়ী সমাধান করা হবে। যাতে পরবর্তীতে মানুষকে আর দুর্ভোগে না পড়তে হয়।
এদিন এই কর্মসূচির পর হেলিকপ্টার করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
