ব্রিগেডে মোদীর সভা , মালদা থেকে দুই জোড়া ট্রেন ভাড়া করল বিজেপি

Spread the love

মালদা , ১২ মার্চ : কলকাতায় ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভা ভরাতে এবার উত্তরবঙ্গে থেকে এক লক্ষ মানুষের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব । তার জন্যই উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্রর জন্য কেন্দ্র পিছু ৩ টি করে ট্রেন চাওয়া হয়েছে। দুটি করে ট্রেন ভাড়া হয়ে গেছে। এই বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে সেই বিশেষ ট্রেনগুলির ভাড়া রেল মন্ত্রককে মিটিয়ে ফেলেছে বলেও দলীয় সূত্রের খবর। দলের কর্মী , সমর্থক নেতা-নেত্রী থেকে সাধারণ মানুষ মোদির সভায় যেতে যাতে কোনরকম হয়রানি শিকার না হতে হয়। তার জন্যই এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা বলেও বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলির পাশাপাশি মালদা থেকেই দুই জোড়া ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আরো ট্রেন ভাড়া হতে পারে। ট্রেনগুলি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্টেশনগুলি থেকে ১৩ মার্চ নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়বে। একইভাবে ১৪ মার্চ কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা শেষ হওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যা রাত থেকেই ধীরে ধীরে সেইসব ট্রেনে চেপেই উত্তরবঙ্গের নিজেদের গন্তব্যস্থলে ফিরতে পারবেন দলের কর্মী , সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষেরা। এক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি।


এদিকে বিজেপির এমন এলাহি ব্যবস্থার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই যেন টাকার উৎস নিয়েই কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল, কংগ্রেস , সিপিএম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, আমরা ট্রেন ভাড়া চাইলে পাওয়া যায় না। বিজেপির ব্রিগেডের সভাকে ঘিরে খরচের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।
দক্ষিণ মালদার কংগ্রেসের সাংসদ ইসাখান চৌধুরী বলেন , কলকাতার ব্রিগেড বা অন্য কোথাও সভা হলে আমাদের দলীয় কর্মী , সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে কালঘাম ছুটে। আর বিজেপিকে দেখুন কি এলাহি ব্যাপার। শুনেছি একেক একটি ট্রেনের ভাড়া, প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। এত টাকা ওরা কোথায় পাচ্ছে? এটা নির্বাচন কমিশন কেউ তদারকি করে দেখা উচিত।
সিপিএমের মালদা জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র বলেন , আসলে ওই দলটি আদানি ও আম্বানির টাকায় চলছে। বিজেপি এখন বড় লোকের পার্টি। আর ইচ্ছেমতো এনআরসি, সিএএ, এসআইআর -এর ভয় দেখিয়েই মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। এই দল ক্ষমতায় আসলে রাজ্যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্লিপার ও জেনারেল কামরার ১৭ বগির একেকটি ট্রেন কলকাতায় যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেকটি ট্রেনের ভাড়া পড়ছে প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। সেটা নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে মূল গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে। দক্ষিণ মালদার ফরাক্কা এবং মালদা টাউন স্টেশন থেকে তিনটি ট্রেন ছাড়বে ১৩ মার্চ রাতে। একইভাবে উত্তর মালদার সামসি , হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশন নিয়ে মোট তিনটি ট্রেন একই দিন ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, রাধিকাপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থেকেও তিনটি এবং দুটি ট্রেন ছাড়া হবে। এর বাইরে কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার , এনজেপি, শিলিগুড়ি, নিউমাল জংশন সহ মোট উত্তরবঙ্গের সমস্ত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন স্টেশন থেকেই দলের কর্মী, সমর্থক ও নেতাদের নিয়েই এই স্পেশাল ট্রেন হাওড়া , শিয়ালদহ, চিতপুর সহ বিভিন্ন স্টেশনে যাবে। প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যথারীতি ১৪ মার্চ রাতে আবার কলকাতার বিভিন্ন স্টেশন থেকে সেই সব ট্রেনগুলি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মোদীর সভাতে যাওয়ার জন্যই এমন সুব্যবস্থার আয়োজন করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব । ব্রিগেডে মোদীর সভা
বিজেপির দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যারা অভিযোগ করছে তারা আসলে দলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কোনদিনই ভাবে নি। নিজেদের সুবিধ ভোগ করে গেছে ওইসব দলের নেতা-নেত্রীরা। উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা কেন্দ্রকে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক জেলা ধরা হয়। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় আমাদের লক্ষ্য রয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে এক লক্ষ মানুষের সমাগম করার । সেই ক্ষেত্রেই দলের নেতা , কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এমন স্পেশাল ট্রেন ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল মন্ত্রকে ইতিমধ্যে দলীয় নেতৃত্ব সেই ট্রেনের নির্দিষ্ট ভাড়াও মিটিয়ে দিয়েছে। আমরা তো সাধারণ মানুষের জন্য ভাবছি, যাতে কোনও হয়রানির শিকার না হয়। ব্রিগেডে মোদীর সভা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *