
মালদা ২৬ নভেম্বর : মেলা মানেই মানুষের কাছে মুখরোচক খাবারের রকমারি সম্ভার, নানান ধরনের বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোরদের খেলনার মনোরঞ্জন। কিন্তু পুরাতন মালদার এটা এমন এক মেলা যেখানে শুধুমাত্র একদিনের জন্যই জুয়া খেলতে হাজির করেন বাড়ির গৃহবধূ থেকে সাধারণ মহিলারা। যা শতাব্দি প্রাচীন জুয়ারী মেলা হিসাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। মূলা ষষ্ঠী উপলক্ষে প্রতি বছরই সাড়ম্বরে এই মেলা পালিত হয়ে থাকে পুরাতন মালদার পুরসভার মোকাতিপুর এলাকায়। আর এই মেলাতে নজরদারি চালানোর জন্য থাকে সিভিক ভলেন্টিয়ারেরাও । এই মেলাকে ঘিরে প্রচলিত আছে যে মহিলারা অংশগ্রহণ করলে সারা বছরে সংসারে জানি নাকি তাদের লক্ষী লাভ হয়ে থাকে । পরিবারে ফিরে আসে সুখ শান্তি। এমনই আশা নিয়েই প্রতিবছর পুরাতন মালদার জুয়াড়ি মেলায় ভিড় করেন সাধারণ ঘরের মেয়ে এবং গৃহবধূরা। এমনকি জেলার বাইরে থেকেও অনেকেই আছেন মুলা ষষ্ঠীর দিন এই জুয়ারী মেলায় অংশ নিতে। জুয়ারী মেলা

বুধবার সকাল থেকে মোকাতিপুর এলাকার খোলা আমবাগানে শুরু হওয়া মেলা চলে রাতভর৷ এই জুয়াখেলায় কোনও পুলিশি নিষেধাজ্ঞা নেই৷ বড়োলোক-গরিবের ভেদাভেদও নেই৷ পুরাতন মালদার বাসিন্দারা এই মেলার সাক্ষী কয়েক প্রজন্ম ধরে৷

মুলাষষ্ঠী তিথিতে প্রাচীনকাল থেকে পুরাতন মালদা পুরসভার মোকাতিপুরে এই মেলা চলে আসছে৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেলা মূলত মুলা ষষ্ঠীর দিনে অনুষ্ঠিত হয় এবং নিজেদের সন্তান কামনার জন্য মা লক্ষ্মীকে পূজা দেন , মেলার পাশেই সতী বেহুলা নদীর জল খেয়ে শুদ্ধি হন মহিলারা এবং মায়েরা এখানে আজও ঐতিহ্য পরম্পরা মেনে পুজো দিতে আসেন। সকালে শুরু হয় ষষ্ঠীপুজো৷ পুজো শেষ হতে না হতেই বসে জুয়াখেলার আসর৷ শুধু মালদা কিংবা রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, এমনকি অসম থেকেও অনেকে এই জুয়ার মেলায় আসেন জুয়া খেলতে।