আমবাগানে কয়লা ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের, ছুটে এলেন সাবিনা।

Spread the love
বামে- ঘটনাস্থল / মাঝখানে- বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন / ডানে- মৃতব্যক্তা

মালদা, ২৫ নভেম্বর : আমবাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হলো তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহ। মঙ্গলবার সাতসকালে এমন ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইংরেজবাজার থানার কাটাগড় সংলগ্ন এলাকায় । ওই এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের আমবাগান থেকেই পুলিশ ওই তৃণমূল কর্মীর দেহ উদ্ধার করে। যদিও মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি কালিয়াচক থানা সুলতানগঞ্জে। মৃতের পরিবারের দাবি, তাদের বাড়ি ছেলেকে মাথায় গুলি করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তে রিপোর্ট পরিষ্কার ভাবে হাতে না এলে গুলি করে খুনের কথা বলা সম্ভব নয়। তবে মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে ওই তৃণমূল কর্মীকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। মৃতের পরিবারের বক্তব্য, সোমবার বিকেল চারটা নাগাদ মোটরবাইক নিয়ে কাজে বেরিয়ে যায় ওই তৃণমূল কর্মী। রাতভর নিখোঁজ থাকার পরেই এদিন সকালে তার মৃতদেহটি উদ্ধার হয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে মৃতের স্ত্রী তানজিলা খাতুন কালিয়াচক এবং ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মৃতদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।
এদিকে মোথাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচকের বাসিন্দা মৃত ওই কয়লা ব্যবসায়ীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের মর্গে উপস্থিত মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানান তিনি। কয়লা ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম ওবায়দুল্লাহ খান (৩২)। তাঁর বাড়ি মোথাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক থানার সুলতানগঞ্জ এলাকার চামাফুলুর বাথান এলাকায়। পরিবারে তার বৃদ্ধ বাবা , মা, স্ত্রী সানজিলা খাতুন এবং দুই ছেলে আসিফ খান (৮) এবং আতিফ খান (৬) রয়েছে। তৃণমূল দল করার পাশাপাশি এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ওবায়দুল্লাহ। মূলত তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । জেলার বিভিন্ন ইঁটভাটাগুলিতেই কয়লা সরবরাহ করতেন। কয়লা ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ
মৃতের এক ভাই আমির খান বলেন, সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ দাদার ফোন এসেছিল। এরপর সে মোটর বাইক নিয়ে ব্যবসার কাজে বেরিয়ে যায়। রাত দশটা থেকে দাদাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৌদি অনেকবার ফোন করে। কিন্তু বারবার মোবাইলে সুইচ অফ বলছিল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও দাদার সন্ধান পায় নি। এরপর ওইদিন গভীর রাতে কালিয়াচক থানায় দাদা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু সকাল হতেই পুলিশ মারফত আমরা খবর পাই, ইংরেজবাজারের কাঁটাগড় এলাকার একটি আমবাগান থেকেই দাদার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি দাদাকে মাথায় গুলি করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। ব্যবসার সুবাদে দাদা অনেকের কাছে মোটা টাকা পেত। আমাদের ধারণা সেই লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দাদাকে মাথায় গুলি করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা।
মৃতের এক জামাইবাবু আব্দুর রউফ সেমিম বলেন, শ্যালকের বাজারে ব্যবসার লক্ষাধিক টাকা পাওনা ছিল। শ্যালক বলেছিল লক্ষ লক্ষ টাকা বেশ কিছু পাওনাদারেরা মেটাচ্ছে না। আর তারপরেই এরকম নৃশংসভাবে ওকে খুন করা হয়। আমরা এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছি।
মৃতের স্ত্রী তানজিলা খাতুন বলেন, আমার স্বামী কোন ও সাতেপাকে থাকত না। নিজের মতোন ব্যবসা করতো। তৃণমূল দলটাকে ভালবাসে। মাঝেমধ্যে দলীয় কিছু কর্মসূচিতে ও যেত। তবে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই ওকে খুন করা হয়েছে। কয়লা ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ
রাজ্যের মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন , ওবায়দুল্লাহকে আমি ভালোমতো চিনি। ও তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মী হলেও অত্যন্ত ভালো ছেলে। গ্রামের মানুষের কাছে ওর সম্পর্কে প্রশংসায় শুনেছি। এখন এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক রং নেই। এই ঘটনায় যারা যুক্ত রয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
যদিও এব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছে , ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে শুট আউটের ঘটনা বলা যাবে না। অন্য কোনও ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে ওই ব্যক্তিকে। এই খুনের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *