আনন্দঘন পরিবেশে কাদিরপুর কিরনময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ ছাত্রছাত্রীর জন্মদিনের কেক কাটলেন এডিএম সপ্তর্ষি নাগ।

Spread the love

মালদা : শুধু বই-খাতা আর ক্লাসরুম নয়, বিদ্যালয় হয়ে উঠুক শিশুদের আনন্দ ও ভালোবাসার ঠিকানা—এই ভাবনাকে সামনে রেখে প্রতি মাসেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের জন্মদিন পালন করছে কাদিরপুর কিরনময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগস্ট মাসেও আনন্দঘন পরিবেশে বিদ্যালয়ের ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়।

বিদ্যালয়ে কেক কেটে শিশুদের জন্মদিন পালন করেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্দীপ রায়। তাঁদের উপস্থিতিতে কেক কাটার মুহূর্তে খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন অতিথিরাও।

এদিন পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ পড়াশোনা নিয়ে শিশুদের ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একসময় আমিও অঙ্কে ফেল করেছিলাম। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অঙ্কে ১০০-তে ১০০ পেয়েছিলাম।” তাই পরীক্ষায় কোনও বিষয়ে কম নম্বর পাওয়া বা ব্যর্থ হওয়াকে ভয় না পেয়ে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে বলে তিনি পড়ুয়াদের বোঝান।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর পরীক্ষার ফলাফলকে একটু একটু করে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্য মন দিয়ে ও শান্তভাবে শোনে খুদে পড়ুয়ারা।

জন্মদিন উপলক্ষে ছিল বিশেষ ভোজনের আয়োজন। মিড ডে মিলের এই বিশেষ মেনুতে ছিল রুচি ডাল, তরকারি ও পায়েস। পছন্দের খাবার এবং জন্মদিনের আনন্দে সকাল থেকেই বিদ্যালয়জুড়ে ছিল উৎসবের পরিবেশ।
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ও ভর্তির ক্ষেত্রেও। প্রতি মাসে জন্মদিন পালনকে ঘিরে শিশুদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়েছে। বেড়েছে নিয়মিত ছাত্র উপস্থিতির হার, পাশাপাশি বেড়েছে বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যাও। শিশুদের কাছে বিদ্যালয়টি ক্রমশ হয়ে উঠেছে এক আনন্দময় শিক্ষাঙ্গন—যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি রয়েছে বন্ধুত্ব, উৎসব, ভালোবাসা ও নিজেদের বিশেষ দিন উদযাপনের সুযোগ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনয় কুমার মিশ্র বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু শিশুদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেওয়া নয়; তাদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আত্মিকভাবে যুক্ত করা।

প্রতি মাসে জন্মদিন পালনের এই ছোট্ট উদ্যোগ শিশুদের মনে বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছে। আজ আমাদের বিদ্যালয় তাদের কাছে অনেকটাই একটি ‘আনন্দ আশ্রম’। শিশুরা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে, উপস্থিতি বাড়ছে এবং নতুন ছাত্রছাত্রীরাও বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।”

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, একটি শিশুর জন্মদিন তার কাছে অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন। সেই দিনটিকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি তৈরি হয় বিদ্যালয়ের প্রতি আত্মীয়তার অনুভূতি। আর সেই ভাবনা থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে এই আয়োজন।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ, জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্দীপ রায় এবং উপস্থিত আধিকারিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

তাঁদের উপস্থিতি শিশুদের এই আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

কাদিরপুর কিরনময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করছে—বিদ্যালয় শুধু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, একটি শিশুর সুন্দর শৈশব গড়ে ওঠারও অন্যতম আশ্রয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *