
মালদা, ১৫ মে : “পেটের টানেই গুজরাটে এসেছি…” — উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের প্রথম দশে জায়গা করে নেওয়ার খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়ল সাগর মণ্ডল। অভাব, সংগ্রাম আর প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করেও নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেয়নি সে। আর সেই লড়াইয়ের ফলেই আজ রাজ্যের মেধাতালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছে মালদার এই মেধাবী ছাত্র।
সাগরের বাড়ি মালদা জেলার এক সাধারণ পরিবারে। বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরেই কাজের সূত্রে গুজরাটে থাকেন। মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাফাই কর্মীর কাজ করেন, আর বাবা স্থানীয় একটি হোটেলে কর্মরত। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েন এতটাই ছিল যে ছোটবেলা থেকেই অভাবকে সঙ্গী করেই বড় হতে হয়েছে সাগরকে।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সাগর একাই বাড়িতে থাকত। নিজের রান্না নিজেকেই করতে হতো, সেইসঙ্গে সামলাতে হতো পড়াশোনা। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় কোনওভাবে চলত দিনযাপন। কিন্তু কখনও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমায়নি সে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংসারের হাল ধরতেই গুজরাটে বাবা-মায়ের কাছে চলে যায় সাগর। সেখানেই কাজের খোঁজ শুরু করেছিল। ঠিক সেই সময় আসে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের খবর। জানতে পারে, সে রাজ্যের প্রথম দশে স্থান করে নিয়েছে। মুহূর্তেই আবেগে ভেঙে পড়ে সাগর। চোখের জলে ধরা পড়ে বহুদিনের কষ্ট, সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপের আনন্দ।
সাগর জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে একজন IAS অফিসার হতে চায়। তার কথায়, “অভাব আছে, কষ্ট আছে, কিন্তু স্বপ্নও আছে। যতদিন না সফলতা আসছে, ততদিন লড়াই চালিয়ে যাব।”
সাগরের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকায়। শিক্ষকরা বলছেন, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনও প্রতিকূলতাকে হার মানানো যায়, তারই বড় উদাহরণ সাগর মণ্ডল।
https://shorturl.fm/zDxgv
https://shorturl.fm/D3Kg5
https://shorturl.fm/Yshhs