
পটনা: নাম ও ধর্ম পরিচয় জানার পরই মুসলিম কাপড় বিক্রেতার উপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। বেধড়ক মারধর, গরম লোহার রডে ছ্যাঁকা, এমনকি কেটে দেওয়া হয় দুই কান। সেই নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল বিহারের নওয়াদা জেলার বাসিন্দা মহম্মদ আতহার হুসেনের (৫০)।
পেশায় ফেরিওয়ালা আতহার সাইকেলে করে জামাকাপড় বিক্রি করতেন। তিনি গগন দিওয়ান গ্রামের বাসিন্দা। গত ৫ ডিসেম্বর ভট্টাপার গ্রাম হয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর সাইকেলের চাকা পাংচার হয়ে যায়। চাকা সারানোর দোকান খুঁজতে রাস্তায় দাঁড়াতেই গ্রামের কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে। নাম ও পেশা জিজ্ঞাসাবাদের পরই শুরু হয় অত্যাচার। Muslim Vendor Assaulted in Bihar
ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে আতহার নিজেই জানান, ১৫–২০ জন তাঁকে ঘিরে ধরে সাইকেল থেকে টেনে নামায়। ব্যাগে থাকা প্রায় ১৮ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার পর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে আটকে রেখে পাথর ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় হাত ও আঙুল। প্লাস দিয়ে কেটে দেওয়া হয় আঙুলের ডগা ও দুই কান। জামাকাপড় খুলিয়ে গরম রডে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় শরীরে। শ্বাসরোধ করায় মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে বলে জানান আতহার।
আধমরা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রোহ্ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরে নওয়াদা সদর হাসপাতাল ও শেষ পর্যন্ত পাওয়াপুরি VIMS-এ ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনায় আতহারের স্ত্রী শবনম পরভীন ৬ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে দুই নাবালক রয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১০ জন অভিযুক্তের পরিচয় জানা যায়নি। শবনমের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন পৌঁছালে তাঁদেরও গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।
অন্য দিকে, অভিযুক্তদের একজন সিকন্দর যাদব পাল্টা এফআইআর দায়ের করে দাবি করেছেন, ওই রাতে গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটে এবং আতহার চুরি করতে ঢুকেছিলেন। যদিও আতহারের ভাই মহম্মদ সাকিব আলম স্পষ্ট দাবি করেছেন, নাম ও ধর্ম পরিচয় জানার পরই তাঁর দাদার উপর হামলা চালানো হয়। Muslim Vendor Assaulted in Bihar
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দু’টি অভিযোগই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। Muslim Vendor Assaulted in Bihar