
মালদা, ২২ নভেম্বর : দরজা খুলতেই শরীর হিম হওয়ার জোগাড়। দিব্যি ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাড়ে চার ফিটের চন্দ্রবোড়া। কি করব ভেবে উঠতে পারছিলাম না। গৃহকর্তা সুকান্ত দাস ছিল বাড়িতে। আমার ভয়ঙ্কর চিৎকারে ছুটে আসে। আমার মতই সে ও থমকে দাঁড়ায়। আমাদের চিৎকারে ততক্ষণে পাড়া প্রতিবেশীরা চলে এসেছে। সে একরকম হইচই অবস্থা। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলছিলেন বাড়ির গৃহিণী গোপা দাস। তার বক্তব্য ঘড়িতে তখন দুপুর ১ টা হবে। রান্না নিয়ে ব্যস্ত। ডাইনিং এ আমি, আমার কর্তা আছি। বাইরের দরজাটা খোলা ছিল । ভাবলাম লাগিয়ে আসি। সেই কাজ করতে গিয়েই দেখি মেঝেতে কিসের দাগ। সন্দেহ হয়। দরজার কাছে যেতেই দেখি উনি ( চন্দ্রবোড়া) ঘরের কোণ ঘেঁষে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার তখন হাত পা ঠাণ্ডা । কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। সাপটি রাস্তা থেকে সোজা ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বলে সকলের ধারনা। সাপের ছাপই সে কথা বলছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার শহরের সানিপার্কে। গৃহকর্তা সুকান্ত দাস বলেন পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একটা মোবাইল নাম্বার পেয়ে সাপ ধরার বিশেষজ্ঞকে ফোন করে। আধঘন্টা পর একজন চলে আসে। নিমিষেই চন্দ্রবোড়া সাপটিকে ধরে বস্তাবন্দি করে নিয়ে যায়। তারপর হাঁফ ছেড়ে বাঁচি আমরা। তবে যে ৩০ মিনিট ছিল সাপটি রীতিমত ঘরের মধ্যে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। শব্দের অনুভব পেয়ে তেড়ে তেড়ে আসছে। সে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা। তবে এই চন্দ্রবোড়া এলো কোথা থেকে সেটাই ভেবে পাচ্ছে না কেউ। বাড়ির সামনে পাকা রাজ্য সড়ক, মালদা মানিকচক রোড চলে গেছে। চারপাশে ঘন লোকবসতি। যদিও কিছু দূরে জলাজমি জঙ্গল আছে। হয়তো সেখান থেকে আসতে পারে। সর্প বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সাধারণ এই চন্দ্রবোড়া একসাথে জোড়া থাকে। তাহলে অপরটি গেল কোথায়, সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সকলকে। উদ্ধারের পর চন্দ্রবোড়া সাপটিকে আদিনা ফরেষ্ট ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।