মালদহে ২৪ ঘন্টায় উলটচিত্র — খালি ট্রাইবুনাল থেকে উপচে পড়া ভিড়, নাম ফেরাতে হাহাকার ভোটারদের

Spread the love

মালদহ : ২৪ ঘন্টাতেই বিপরীত ছবি মালদহে। গতকাল যেখানে কার্যত খাঁ খাঁ করছিল ট্রাইবুনাল। সেখানে আজ সকাল থেকেই থিকথিকে ভিড়। ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজির ভোটাররা। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অফলাইনে নিজেদের আবেদন নথিভুক্ত করালেন বহু মানুষ। একই সঙ্গে ধরা পড়ল দুর্ভোগের ছবি। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না। ক্রাচে ভর দিয়ে বহু কষ্টে ট্রাইব্যুনালে হাজির ৬৩ বছরের মহিলা সরোজ রায়। ইংরেজবাজার বিধানসভার মালদা শহরের রাজা শরৎচন্দ্র রোডের বাসিন্দা। একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। এরআগের এসআইআরএ কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু, এবার প্রথমে hearing এর নোটিশ পান। এরপর নাম ওঠে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন তালিকায়। পরে সর্বশেষ তালিকায় নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত গন্তব্য ট্রাইবুনাল। বললেন নথি বলতে কয়েক দশক আগের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এর কার্ড রয়েছে। স্কুল পাস সার্টিফিকেট রয়েছে। কিন্তু, জমি বাড়ি বা দলিলপত্র নেই। ফলে নাম আদৌ উঠবে কীনা তা নিয়ে একরাশ দুশ্চিন্তা। নাম রবি সন্ন্যাসী। বয়স আনুমানিক ৭০ বছর।

আগে ভোটার ছিলেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভার হোসেনপুরে। গঙ্গা ভাঙনে বাড়িঘর তলিয়ে যায়। প্রায় ৩০ বছর আগে আসেন মালদহের গাজোলে। এখন বসবাস করেন গাজোলের বৈরগাছী গ্রাম পঞ্চায়েতের জিগিন এলাকায়। ৯৫ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছেন। এবার গাজোলে হেয়ারিংয়ে যোগ দেন। এরপর মালদহে জেলাশাসকের দপ্তরের জমা দেন আবেদন পত্র। এরপরেও নাম বাদ যাওয়ায় এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। পরিবারের স্ত্রী, ছেলে মেয়েদের নাম রয়েছে। অথচ, তাঁর নাম তালিকা থেকে উধাও। মালদহের চাচল- এর বাসিন্দা ৬৯ বছরের ঈশান আলি। ১৯৭৭ সাল থেকে এই যাবৎ সমস্ত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এবার নাম বাদ চলে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন মালদা শহরে এসআইআর ট্রাইব্যুনালে। হাতে পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট। কেন নাম বাদ পড়ল? মনে একরাশ বিরক্তি, ক্ষোভ, হতাশা নিয়ে হাজির ট্রাইব্যুনালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *