
মালদা, ৫ ডিসেম্বর। প্রায় ১০০ দিন বাংলাদেশের জেলে থাকার পর ভারতে ফিরলেন বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী বিবি এবং তার ৮ বছরের এক নাবালক সন্তান। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মতোই ভারতীয় ডেপুটি কমিশনারের তত্ত্বাবধানেই বুধবার সন্ধ্যায় মালদার ইংরেজবাজার থানার ভারত-বাংলাদেশ মহদিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সোনালী বিবি ও তার নাবালক ছেলেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার মনোজ কুমার। পাশাপাশি ছিলেন বিএসএফের ১১৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের কয়েকজন আধিকারিক ও জওয়ান এবং বাংলাদেশের বিজিবি’র (বর্ডার গার্ড অফ বাংলাদেশ) কয়েকজন সদস্য । প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা সোনালী বিবি ও তার পরিবারের ছয় সদস্য কাজের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ জুন তাঁদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ ৷ শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয় ৷ সেই সন্দেহের ২৬ জুন অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করে ছ’জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় ৷ সেই সময় সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন ৷সেই থেকে তাঁরা বাংলাদেশে রয়েছেন ৷ এদিকে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে ও মামলা রুজু করে ৷ এই অবস্থায় একশো দিনেরও বেশি সময় তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন ৷ বাংলাদেশ কারাগার থেকে মুক্তি

গত সোমবার এই মামলায় সকলেই জামিন পেয়েছেন ৷ দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে দিল্লি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে এই দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে৷ সেইমতো এদিন সোনালী বিবি ও তার সন্তানকে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে পরিবারের আরো বাকি চার সদস্যকে বাংলাদেশ থেকে ফেরানো হয় নি। এদিকে দিন সোনালী বিবির বাকি ৪ সদস্যর ফেরতের দাবিতে রীতিমতো ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সামনেই প্রতিবাদ জানান মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ সহ অন্যান্যরা। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা সোনালী বিবির এটা প্রমাণিত হয়েছে সর্বোচ্চ আদালত সোনালী বিবি ও তার পরিবারকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু আজকে আমরা দেখলাম সোনালী বিবি ও তার নাবালক ছেলেকেই বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বাকি চার সদস্য কোথায়? তার জবাব দিতে পারেনি ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার মনোজ কুমার তিনি আমাদের প্রশ্ন শুনে সেখান থেকে চলে গিয়েছেন। আমরা বাকি সদস্যদের ফিরিয়ে আনা দাবি জানাচ্ছি।