
নয়াদিল্লি : পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখিয়েছিল ইরানের চবাহার বন্দর। এই বন্দর ঘিরে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ভারত। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অবস্থান মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে চবাহার বন্দর নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত চবাহার বন্দর ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই বন্দরের মাধ্যমে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারে ভারত। সেই কারণেই বহু বছর আগে এই বন্দরের উন্নয়নে আগ্রহ দেখায় নয়াদিল্লি। ধাপে ধাপে বন্দর উন্নয়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ভারত কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করেছে।
চবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC)-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই করিডোর কার্যকর হলে ইউরোপ পর্যন্ত পণ্য পরিবহণে সময় ও খরচ দুইই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ভারতের রপ্তানি-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়ার কথা ছিল।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে ইরানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। সম্প্রতি আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নতুন করে চাপ বাড়ানো হয়েছে। এর জেরে চবাহার বন্দরের জন্য যে বিশেষ ছাড় বা ‘ওয়েভার’ এতদিন ভারত পেয়ে আসছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থা ও বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। একদিকে চবাহার প্রকল্প ছেড়ে দিলে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বড় ধাক্কা খাবে, অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাও সহজ নয়। ফলে আমেরিকা ও ইরান—দু’পক্ষের সঙ্গেই সমঝোতার পথে হাঁটার চেষ্টা করছে ভারত।
ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চবাহার বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, বরং এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই এই বন্দর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব দিক ভেবেচিন্তেই পদক্ষেপ করা হবে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানকে টপকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের যে স্বপ্ন চবাহার বন্দর দেখিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ভারত—এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।