
মালদা , ১৯ আগষ্ট : ছাগল চুরি দেখে ফেলায় ১২ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ, লিচু গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার দাবি, মালদার কালিয়াচক-১ ব্লকের সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চামাগ্রাম বাগানপাড়া সংলগ্ন একটি লিচুবাগান থেকে ১২ বছরের এক শিশুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিশুর নাম ফাহিম শেখ। পরিবারের অভিযোগ, ছাগল চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় ফাহিমকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লিচুগাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাহিম বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ফাহিমের মায়ের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজনকে ছাগল চুরি করতে দেখে ফেলেছিল তাঁর ছেলে। সেই কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘আমার ছেলেকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। আমরাও দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই।’’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালিয়াচক থানার পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জসিম নামে এক যুবককে ধরে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় জসিম শেখকে আটক করা হয়েছে। সে আরফাজুল শেখের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। ওই ব্যক্তি এখনও পলাতক। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, ছাগল চুরির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং শিশুটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছে—সবদিক খতিয়ে দেখছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।