জেলা পরিষদ বোর্ড গঠন নিয়ে ধোঁয়াশা। বিষ্ফোরক অজয় গাঙ্গুলি

Spread the love

মালদা ১৭ সেপ্টেম্বর : মালদা জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন কবে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা। সভাধিপতি , সহকারী সভাধিপতি পদত্যাগের পর থেকেই থমকে গেছে উন্নয়ন। পুজোর আগে যে জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন হবে না কার্যতা অস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। যেহেতু এখন মালদায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মালদা জেলা পরিষদের কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ভাবে পুরনো কাজগুলো করা হচ্ছে। নতুন কোন কাজ করা যাচ্ছে না। এখন বন্যায় ভাসছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। সেদিকেও নজর দিতে হয়েছে।


উল্লেখ্য , মালদা জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ৪৩ টি। যার মধ্যে বিজেপি রয়েছে ৪টি , কংগ্রেসের রয়েছে ৬ টি এবং বাকি ৩৩ টি আসন রয়েছে তৃণমূলের দখলে । বিগত দিনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বোর্ড গঠন করেছিল। কিন্তু গত জুলাই মাসে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে দলেরই একাংশ নির্বাচিত সদস্যরা ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়। এরপর গত ১৪ আগস্ট মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন পদত্যাগ করেন। তারপর থেকেই জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে । এরপর গত ১৬ আগষ্ট বোর্ড গঠনের নোটিশ দেয় জেলাশাসক।
মালদা জেলা পরিষদের একজিকিউটিভ অফিসার তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, জেলা পরিষদ নিয়ে আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। আদালত থেকে একটা নোটিশ দেওয়া হয়েছে ১০ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদ সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনারকে। পঞ্চায়েত আইনে নেই কমিশনার জেলা পরিষদের নতুন বোর্ড গঠন করবে। তাছাড়া এখন জেলা পরিষদের বোর্ড গঠনে পুলিশ পাওয়া যাবে না। চারিদিকে বন্যায় ভাসছে মানুষ। পুলিশ ব্যাস্ত আছে। পুলিশ সুপার দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এরই মধ্যে আদালতের নোটিশ এসেছে। যেকারনে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক আরও বলেন, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জেলা পরিষদের সদস্যদের তো কোন সদস্যপদ চলে যায় নি। এই সময় বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আসলে এতদিন জেলা পরিষদটা কামানোর জায়গা হয়ে উঠেছিল। জেলার একাধিক এলাকা যেখানে ভাসছে সেখানে জেলা পরিষদের কোন সদস্যের দেখা নেই। সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি পদ্যতাগ করেছেন । কিন্তু তারা তো এখনও সদস্য। এছাড়াও আরো অন্যান্য তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যরা রয়েছে। তারাও একেবারেের জন্যও বন্যা কবলিত এলাকা যাননি এতেই বোঝা যাচ্ছে ওই দলটা দুর্নীতিগ্রস্ত রয়েছে।
জেলা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, মানিকচকের ভুতনির বন্যার দোহাই দিয়ে প্রশাসক বসানো পরিকল্পনা শাসক দলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *