
মালদা জেলার গাজোল ব্লকের আলমপুরের বাসিন্দা শ্রীমন্ত চৌধুরীর একনিষ্ঠ উদ্যোগে গত ১৫ বছর ধরে বিনামূল্যে আর্চারি প্রশিক্ষণ পেয়ে নিজেদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলেছে জেলার বহু প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে। গাজোলের ঝুমুরতলা এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘একলব্য আর্চারি একাডেমি’ আজ গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার একাডেমিতে শিশু থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তিরন্দাজির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ছোটবেলা থেকেই একজন দক্ষ তিরন্দাজ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন শ্রীমন্ত চৌধুরী। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি দেশের একাধিক স্বনামধন্য প্রশিক্ষকের কাছ থেকে আর্চারির প্রশিক্ষণ নেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের খুঁজে এনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। তাঁর প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা জুয়েল সরকার, রুমা বিশ্বাস, মন্দিরা রাজবংশী, রুপু মণ্ডল, অপূর্ব রায় ও গণেশ টুডুসহ একাধিক খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সাফল্যের নজির গড়েছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে ভারতীয় রেল, বিএসএফ, আসাম রাইফেলসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত। শ্রীমন্ত চৌধুরীর কথায়, এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে খেলোয়াড়রা রাজ্য ও জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, এমনকি অলিম্পিকেও অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে পারে। পাশাপাশি ক্রীড়া কোটার মাধ্যমে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। একাডেমির এক ছাত্র জানান, তাঁর আর্চারির যাত্রা শুরু হয় এই একাডেমি থেকেই। পরবর্তীতে ঝাড়গ্রামে উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর স্বপ্ন। তবে সাফল্যের পাশাপাশি একাডেমিকে লড়াই করতে হচ্ছে পরিকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে। আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত অনুশীলনের অভাবে প্রতিভাবান লখেলোয়াড়দের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য জেলার বাইরে পাঠাতে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে ক্রীড়া সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন শ্রীমন্ত চৌধুরী। তাঁর বিশ্বাস, সরকারি সহযোগিতা মিললে ‘একলব্য আর্চারি একাডেমি’ আরও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে এবং ভবিষ্যতে মালদা থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের আরও বহু তিরন্দাজ দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।