
মালদা, ১৯ জুলাই : মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এখনও পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওলজি বিভাগ, বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ চিকিৎসক এবং ক্যাথল্যাব না থাকায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবার। একই সঙ্গে নিউরো মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় স্নায়ুরোগীদেরও উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের বর্তমানে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাই প্রাথমিকভাবে দেখছেন। কিন্তু জটিল ক্ষেত্রে রোগীদের দুর্গাপুর, কলকাতা কিংবা রাজ্যের বাইরের হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন চিকিৎসায় বিলম্ব হচ্ছে, তেমনি রোগীর পরিবারের ওপর বাড়ছে আর্থিক ও মানসিক চাপ।
২০১১ সালে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিষেবা শুরু হলেও এখনও কার্ডিওলজি ও নিউরো মেডিসিন বিভাগের পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার রোগীদের উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মালদা জেলা আইএমএ-র চিকিৎসকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে মালদা মেডিকেল কলেজে কার্ডিওলজি বিভাগ, আধুনিক ক্যাথল্যাব এবং নিউরো মেডিসিন বিভাগ চালু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানানো হবে।
মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. পার্থ প্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগের সরকারের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছেও নতুন করে কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক ক্যাথল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখানে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিউরো সার্জারির পরিষেবা আপাতত চালু রয়েছে।”
মালদা জেলা আইএমএ-র সম্পাদক ডা. অভিজিৎ মিশ্র বলেন, “এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আবারও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানাব, যাতে দ্রুত কার্ডিওলজি ও নিউরো মেডিসিন বিভাগের পরিষেবা চালু করা হয়।”
এদিকে, ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি অভিযোগ করে বলেন, “মালদা মেডিকেল হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার হাসপাতালের উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। কেন্দ্র সরকার অর্থ দিলেও তা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। হাসপাতালে এখনও কার্ডিওলজিস্ট, ক্যাথল্যাব এবং নিউরো মেডিসিন বিভাগ নেই। বাজেটে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে, এই সমস্যার সমাধান আমাদের সরকারই করবে।”
অন্যদিকে, ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “আমাদের সময়েও বহুবার কার্ডিওলজি বিভাগ ও ক্যাথল্যাব চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন রাজ্য সরকার এসেছে, আশা করছি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি দ্রুত চালু হবে।”
স্বাস্থ্য পরিষেবার এই ঘাটতি দ্রুত দূর করে মালদা মেডিকেল কলেজে আধুনিক হৃদরোগ ও স্নায়ুরোগ চিকিৎসা চালুর দাবিতে জোরালো হচ্ছে চিকিৎসক মহল ও জেলার সাধারণ মানুষের দাবি।