
মালদা ১৭ জুলাই : গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট নিতে ভিড়, এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরের সেই ছবি আবার ধরা পড়ল আজ সোমবার। এদিন বেশ কিছুক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘেঁষে যাওয়া ১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভরত প্রাক্তনীরা। পরে ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে অবরোধ তোলে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে এদিন কন্ট্রোলার ও রেজিষ্টারকে পাশে রেখে পুলিশের উপস্থিতিতে উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য মাইক হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন এই সময় পরীক্ষা চলছে। কোনরকম অশান্তি করবেন না। আমি সকলের কাছে কোয়াপরেশন চাইছি। এখানে আমার আসার কথা নয়, তবুও আমি এসেছি। প্রভিশনাল সাটিফিকেট এখন থেকে অনলাইনে নিতে হবে। তাঁর জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৫০০ টাকা ফি নেওয়া নিয়ে উপাচার্য সাফাই দেন। বলেন এই ফি বাড়তি নেওয়া হচ্ছে এটাও ঠিক নয়। রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন সেখানে এই ফি নেওয়া হয়। তবে চাকরির ক্ষেত্রে যদি অরিজিনাল সাটিফিকেট প্রয়োজন হয় তাহলে সংস্থার তরফে লিখিত নিয়ে আসতে হবে। উপাচার্যের এই মন্তব্যে নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়েছে প্রাক্তনীদের মধ্যে। প্রাক্তনীদের বক্তব্য কোন সংস্থা লিখিত দেবে ?। উপাচার্য অব্যাস্তব কথা বলেছেন। উপাচার্যের এই বক্তব্য উদ্ধৃতি করে শিক্ষা মন্ত্রীর মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাক্তনীরা। আসলে বিশ্বভারতী থেকে এসেছেন উপাচার্য। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। যে কারনেই গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীদের একাংশ। জেলার একাধিক শিক্ষাবিদদের বক্তব্য একজিকিউটিভ কাউন্সিলকে দূরে সরিয়ে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চলছে একক সিদ্ধান্তে।

উল্লেখ্য ৯ বছরের উপর কনভোকেশন হয়নি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। যার ফলে লাখ লাখ পাশ পড়ুয়ারা পড়েছেন চরম সমস্যায়। অরিজিনাল সাটিফিকেট হাতে না পাওয়ায় চাকরি ক্ষেত্রে হোক অথবা অন্য কোথাও ফর্ম ফিলাপ করতে পারছে না। প্রভিশনাল সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে মোটা টাকা দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে ক্ষোভ বিক্ষোভ। ১৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে পাশ করা পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ এবং রাজ্য সরকারের ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্পে আবেদন করতে ডিগ্রি সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক হওয়ায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা পড়ুয়াদের অরিজিনাল সাটিফিকেট জরুরি হয়ে পড়েছে। এই কারণে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সোমবার থেকে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট সংগ্রহে হাজার হাজার পড়ুয়ার ভিড় হয়। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু স্নাতক পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের পর আর সমাবর্তন না হওয়ায় স্থায়ী ডিগ্রি সার্টিফিকেট পাননি।

ফলে ৫০০ টাকা দিয়ে বারবার প্রভিশনাল সার্টিফিকেট তুলতে হচ্ছে। কেন এত বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক বিশ্বরূপ সরকার ৮ জুলাই যারা প্রভেশনাল সাটিফিকেটের জন্য আবেদন করেছেন তাদেরকেই দেওয়া হবে ওই সাটিফিকেট। বাকিদের অনলাইনে নিতে হবে প্রভেশনাল সাটিফিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য অধ্যাপক সনাতন দাস বলেন, আজ উপাচার্য নিজেই জানিয়েছেন কনভেনশন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সমাবর্তন হয়ে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য এদিন প্রাক্তনীদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন কনভেনশন করার উদ্যোগ তারা নিয়েছেন। গত নয় বছরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পাঁচ লক্ষেরও বেশি স্নাতক স্থায়ী সার্টিফিকেট থেকে বঞ্চিত বলে দাবি প্রাক্তনীদের।