কেওয়াইসি না দিলে বানিজ্যিক হারে গ্যাস কিনতে হবে

Spread the love

মালদা ৫ জুলাই : ই – কেওয়াইসি না থাকলে বানিজ্যিক হারে গ্যাস কিনতে হবে। এমনই সরকারি নির্দেশ জারি করেছে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। এমনিতেই দ্রব্য মুল্যের বাজার আকাশছোঁয়া তারউপর গ্যাসের নতুন নিয়মে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। গ্যাস ডিলারদের বক্তব্য ই – কেওয়াইসি করার জন্য ময়দানে নেমেছে তারা। গ্যাসের দোকানে যারা আসতে পারছে না সেই সব গ্ৰাহকদে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে সেচ্ছাসেবকেরা। ইংরেজবাজারের এক গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সিতু মেমোরিয়াল গ্যাস এজেন্সির মালিক সোমেশচন্দ্র দাস জানান ১৬ আগষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৬ আগষ্টের পর ই – কেওয়াইসি না থাকলে বানিজ্যিক হারে গ্যাস কিনতে হবে। বর্তমানে মালদায় ভর্তুকি যুক্ত গ্যাস ১০৩৯ টাকা। বানিজ্যিক গ্যাস ১৭০০ টাকা। সোমেষচন্দ্র দাস আরো বলেন ই – কেওয়াইসির জন্য প্রয়োজন বায়োমেট্রিকের সাথে আঙুলের ছাপ দিতে হবে। নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর গ্যাসের কানেকশনের সাথে রেজিস্ট্রার থাকতে হবে। মালদা জেলার শুধুমাত্র ইংরেজবাজারে প্রায় দুই লাখ গ্যাসের গ্ৰাহক রয়েছে। জেলায় আছে কয়েকলাখ। স্বভাবতই এই বিপুল সংখ্যক গ্যাসের গ্ৰাহকদের ১০ দিনের মধ্যে ই – কেওয়াইসি কি করা সম্ভব তাই নিয়ে চিন্তিত সব মহল। যদিও গ্যাস ডিলারদের সংগঠন আসস্ত করছে ই – কেওয়াইসি করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা। কি করে বোঝা যাবে “আপনার ই- কেওয়াইসি নেই” গ্যাস ডিলারের বক্তব্য, গ্যাস ডেলিভারি দেওয়ার সময় যে রসিদ দেওয়া হয় সেই রসিদে উল্লেখ করে দেওয়া হচ্ছে ” ডিউ ” । অর্থাৎ আপনার ই – কেওয়াইসি দেওয়া নেই। শহরের এক গ্যাসের গ্ৰাহক ননী গোপাল সাহা বলেন কেন্দ্রসরকার আর কিকি ভাবে হয়রানি করবে। আঁধারের লাইন। প্যানের জন্য লাইন। এখন আবার গ্যাসের লাইন। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র অভিযোগ করে বলেন, ‘হকার, ফুটপাত উচ্ছেদ থেকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত বিজেপির শাসনকালে। এবার গ্যাসের ক্ষেত্রে নতুন ফতেয়া জারি। সমস্ত ঘটনায় প্রমাণ করে বিজেপি সরকার গরিব মানুষের সরকার নয়, ধনীদের স্বার্থ দেখেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্র ও রাজ্যে যদি আরো কিছুদিন এই বিজেপি সরকার টিকে যায় তবে ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে সাধারণ মানুষের উপর।”


তবে গ্যাসের এই নতুন নিয়মকে কোনরকম অন্যায় দেখছেনা বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি। তিনি বলেন সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য এটা হচ্ছে। গ্যাসের কালোবাজারি, জাল কানেকশন রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। গরীব মানুষের জন্যই তো ভর্তুকির ব্যবস্থা। কিন্তু মাঝখানে যদি অন্যরা খেয়ে নেয় এর দায় কে নেবে। এত জাল আঁধার, ভোটার কার্ড করে সুবিধা ভোগ করছে এক শ্রেণীর মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *